[১] সূরা গাশিয়াহ (আয়াত নং ২০)
وَ اِلَی
الْاَرْضِ کَیْفَ سُطِحَتْ ﴿ٝ۲۰﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: ২০। এবং
ভূতলের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমতল করা হয়েছে?[1]
তাফসীর:
[1]
কেমনভাবে তাকে সমতল বানিয়ে মানুষের বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। তাতে মানুষ চলা-ফেরা
ও কাজ-কারবার করে এবং আকাশ-চুম্বি উচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করে থাকে।
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
نُصِبَتْ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা পর্বতমালাকে এমনভাবে মাটিতে প্রোথিত করে
দিয়েছেন যাতে জমিন নড়াচড়া করতে না পারে। আর পর্বতও যেন অন্যত্র সরে যেতে না পারে।
سُطِحَتْ অর্থ : بسطت و مهرت বা বিছিয়ে ও প্রশস্ত করে দেয়া
হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
এরপর বলা
হচ্ছেঃ আর তারা কি দৃষ্টিপাত করে না পর্বতমালার দিকে যে, কিভাবে আমি ওটাকে স্থাপন করেছি? অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা
পর্বতমালাকে এমনভাবে মাটির বুকে প্রোথিত করে দিয়েছেন, যাতে
জমিন নড়াচড়া করতে না পারে। আর পর্বতও যেন অন্যত্র সরে যেতে সক্ষম না হয়। তারপর
পৃথিবীতে যেসব উপকারী কল্যাণকর জিনিস সৃষ্টি করেছেন সেদিকেও মানুষের দৃষ্টিপাত করা
উচিত। আর জমিনের দিকে তাকালে তারা দেখতে পাবে যে, আল্লাহ তা'আলা কিতাবে ওটাকে বিছিয়ে দিয়েছেন! মোটকৃথা এখানে এমন সব জিনিসের কথা বলা
হয়েছে যেগুলো কুরআনের প্রথম ও প্রধান সম্বোধন স্থল আরববাসীদের চোখের সামনে সব
সময় থাকে। একজন বেদুঈন যখন তার উটের পিঠে সওয়ার হয়ে বেরিয়ে পড়ে তখন তার
পায়ের তলায় থাকে জমীন, মাথার উপর থাকে আসমান, পাহাড় থাকে তার চোখের সামনে, সে নিজের উটের পিঠে
আরোহীরূপে থাকে। এ সব কিছুতে স্রষ্টার সীমাহীন কুদরত, শিল্প
নৈপুণ্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। আরো প্রতীয়মান হয় যে, স্রষ্টা
ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই যার
কাছে নত হওয়া যায়, অনুনয় বিনয় ব্রা যায়। আমরা যাকে
বিপদের সময় স্মরণ করি, যার নাম জপি যার কাছে মাথানত করি
তিনি একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ রাব্দুল আ’লামীন। তিনি ছাড়া ইবাদতের
যোগ্য কেউ নেই। যিমাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে যে সব প্রশ্ন করেছিলেন সেগুলো
এরকম কসম দিয়েই করেছিলেন।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে
বারবার প্রশ্ন করা আমাদের জন্যে নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমরা মনে মনে কামনা করতাম যে,
যদি বাইরে থেকে কোন বিজ্ঞ ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে আমাদের
উপস্থিতিতে প্রশ্ন করতেন তবে তাঁর মুখের জবাব আমরাও শুনতে পেতাম (আর এটা আমাদের
জন্য খুব খুশীর বিষয় হতো)! আকস্মিকভাবে একদিন এক দূরাগত বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহকে
প্রশ্ন করলেনঃ হে মুহাম্মদ (সঃ)! আপনার দূত আমাদের কাছে গিয়ে বলেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন একথা নাকি আপনি বলেছেন?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ ‘সে সত্য কথাই বলেছে।” লোকটি প্রশ্ন
করলোঃ “আচ্ছা, বলুন তো, আকাশ কে সৃষ্টি
করেছেন?
রাসূলুল্লাহ (সঃ) জবাবে বললেনঃ “আল্লাহ।` লোকটি বললোঃ “জমীন
সৃষ্টি করেছেন কে? তিনি উত্তর দিলেনঃ “আল্লাহ।” সে প্রশ্ন
করলোঃ “এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা কিছু করার তা করেছেন তিনি কে?
তিনি জবাব দিলেনঃ “আল্লাহ।” লোকটি তখন বললোঃ “আসমান জমীন যিনি
সৃষ্টি করেছেন এবং পাহাড়গুলো যিনি স্থাপন করেছেন তাঁর শপথ। ঐ আল্লাহ্ই কি আপনাকে
তার রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে
বললেনঃ “হ্যা` লোকটি প্রশ্ন করলোঃ “আপনার দূত একথাও বলেছেন
যে, আমাদের উপর দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয (এটা কি
সত্য?” তিনি জবাবে বললেনঃ “হ্যা”, সে
সত্য কথাই বলেছে।” লোকটি বললোঃ “যে আল্লাহ আপনাকে রাসুলরূপে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ!
ঐ আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন
“হ্যা”। লোকটি বললোঃ “আপনার দূত একথাও
বলেছেন যে, আমাদের উপর আমাদের মালের যাকাত রয়েছে।
(একথাও কি সত্য)?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, সে সত্যই বলেছে।” লোকটি বললোঃ “যে আল্লাহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন তার কসম!
তিনিই কি আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি জবাবে বললেন “হ্যা`
লোকটি বললোঃ “আপনার দূত আমাদেরকে এখও দিয়েছেন যে, আমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন হজ্জব্রত পালন করে (এটাও কি
সত্য?)` তিনি জবাব দিলেনঃ হ্যা” সে সত্য কথা বলেছে।” অতঃপর
লোকটি যেতে লাগলো। যাওয়ার পথে সে বললো! “যে আল্লাহ আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন
তাঁর শপথ! আমি এগুলোর উপর কমও করবো না, বেশিও করবো না।`
তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ! “লোকটি যদি সত্য কথা বলে থাকে তবে
অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, লোকটি বললোঃ “আমি হলাম যিমাম ইবনে
সা'লাবাহ্, বানু সা'দ ইবনে বকর (রাঃ)-এর ভাই।
তাফসীরে তাবারী
অতঃপর আল্লাহ্ পাকের বাণী :
وَإِلَى
الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ
'এবং এই ধরণী কিভাবে বিস্তীর্ণ হয়ে আছে?'
যা আমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান।
বাশার.....আবু কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণনা করেছেন যে,
আল্লাহ্ তাআলার বাণী:
( وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سطحتْ )
অর্থাৎ তারা কি ভূ-মণ্ডল দেখে না, কিভাবে একে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে?
যিনি আপন কুদরতের দ্বারা এতকিছু করতে সক্ষম, তিনি কি
জান্নাতের মধ্যে তাঁর ইচ্ছামত সব কিছুই সৃষ্টি করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন।
[২] সুরা আর রা'দ
(আয়াত নং ৩)
وَ هُوَ
الَّذِیْ مَدَّ الْاَرْضَ وَ جَعَلَ فِیْهَا رَوَاسِیَ وَ اَنْهٰرًا ؕ وَ مِنْ
کُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِیْهَا زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ یُغْشِی الَّیْلَ
النَّهَارَ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَکَّرُوْنَ ﴿۳﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: (৩) তিনিই
ভূতলকে বিস্তৃত করেছেন এবং ওতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন[1] এবং প্রত্যেক
প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।[2] তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত
করেন; এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
তাফসীর:
[1]
পৃথিবীর দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অনুমান করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন। উঁচু ও বিশাল
পর্বতমালাকে ভূপৃষ্ঠে কীলক স্বরূপ গেড়ে দেওয়া হয়েছে। নদী-নালা, সমুদ্র ও ঝর্ণাদির এমন ব্যবস্থাপনা রেখেছেন, যার
দ্বারা মানুষ নিজেও উপকৃত হয় এবং ক্ষেত-বাগানও সেচন করে থাকে। ফলে বিভিন্ন
প্রকারের শস্য ও ফল উৎপাদন হয়, যাদের আকার-প্রকারও ভিন্ন এবং
স্বাদও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
[2] এর
একটি অর্থ এই যে, নর-মাদী দুটোই বানিয়েছেন, যেমনটি আধুনিক আবিষ্কর্তারাও এর সত্যায়ন করেছেন। (জোড়ায় জোড়ায়)এর দ্বিতীয়
অর্থ বিপরীতমুখী, যেমনঃ মিষ্টি-টক, ঠান্ডা-গরম,
কালো-সাদা এবং সুস্বাদ-বিস্বাদ, এ ধরণের
পারস্পরিক বিপরীতধর্মী বস্তু সৃষ্টি করেছেন।
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
আল্লাহ
তা‘আলা ঊর্ধ্বজগতের বর্ণনা দেয়ার পর এখানে নিম্নজগতের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সহকারে। مَدَّ অর্থ বিস্তৃত করা। অর্থাৎ আকাশ-জমিন মিলিত ছিল। অতঃপর আল্লাহ
তা‘আলা আলাদা করে পৃথিবীকে বিস্তৃত করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَوَلَمْ
يَرَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ أَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا
فَفَتَقْنٰهُمَا ط وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَا۬ءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ط أَفَلَا
يُؤْمِنُوْنَ )
“যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও
পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে
দিলাম; এবং সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩০)
উঁচু ও বিশাল পাহাড় তিনিই ভূ-পৃষ্ঠে স্থাপন করেছেন। নদী-নালা, সমুদ্র ও ঝর্ণার এমন ব্যবস্থাপনা রেখেছেন। যার দ্বারা মানুষ নিজেও উপকৃত
হয় এবং ক্ষেত-খামারেও সেচন করে থাকে। এর ফলে জমিনে বিভিন্ন রং, বিভিন্ন স্বাদ ও আকারের ফল-ফলাদি উৎপন্ন হয়। এখানে (زَوْجَيْنِ
اثْنَيْنِ) এর দু‘টো অর্থ হতে পারে। প্রথমত এর দ্বারা
নর-মাদী দু‘টোই বানিয়েছেন এরকম অর্থ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনটি আধুনিক
বিজ্ঞানীরা সত্যায়ন করেছেন। আবার এর দ্বারা বিপরীতমুখী অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে।
যেমন টক-মিষ্টি, ঠাণ্ডা-গরম, সুস্বাদু-বিস্বাদ,
সাদা-কালো এই অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে।
তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। এরা পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করছে একটির
আগমন ঘটছে এবং অপরটির প্রস্থান। এই সবগুলোই প্রমাণ করছে যে, সারা
বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হচ্ছেন এক আল্লাহ তা‘আলা যিনি অদ্বিতীয় ও অংশীবিহীন। আর
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী ও চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। যদি কেউ এসব বিষয়
নিয়ে সঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে সে নিশ্চিত সু-পথ প্রাপ্ত হবে।
قِطَعٌ -(وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ)
অর্থ ভূ-খণ্ড, আর مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ পাশাপাশি, প্রতিবেশি। অর্থাৎ পৃথিবীতে
যে ভূ-খণ্ড রয়েছে তা পরস্পর সংলগ্ন, একে অপরের পাশাপাশি ও
নিকটবর্তী। তা সত্ত্বেও সর্বত্র একই রকম ফলমূল উৎপন্ন হয় না। কিছু জায়গা আছে যেখান
আঙ্গুর হয়, আবার কিছু জায়গা আছে যেখান আঙ্গুর হয় না। এক
দেশের খেজুর, ধান ও অন্যান্য ফলাদি আরেক দেশে হয় না। অথচ
একটি পৃথিবী, একই আকাশ থেকে একই প্রকার বৃষ্টি হয়। কোন জমি
খুবই উর্বর আবার কোন জমি অনুর্বর, আবার কোনটি এমন যাতে কোন
ফসলই উৎপন্ন হয় না। এগুলোতে নিদর্শন রয়েছে আল্লাহ তা‘আলাকে চেনার।
صِنْوَانٌ বলা হয় যার মূল একটি কিন্তু এর
শাখা-প্রশাখা অনেকগুলো। যেমন, ডালিম, ডুমুর
ইত্যাদি।
(وَغَيْرُ صِنْوَانٍ)
বলা হয় যার একটিই মূল থাকে এবং তাঁর থেকে কোন শাখা-প্রশাখা বের হয় না। যেমন তালগাছ, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ, সুপারি
গাছ ইত্যাদি। সবগুলোর জন্য অর্থাৎ
صِنْوَانٌ ও وَغَيْرُ صِنْوَانٍ
এর জন্য একই পানি থেকে সেচ দেয়া হয় অর্থাৎ বর্ষার পানি এবং একই মাটি থেকে উৎপন্ন।
অথচ স্বাদের দিক দিয়ে, ছোট-বড় হওয়ার দিক দিয়ে ফলের মধ্যে বড়ই
পার্থক্য রয়েছে। এগুলো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই করে থাকেন অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
উর্ধ্বজগতের
বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তাআ’লা এখানে নিম্ন জগতের বর্ণনা দিয়েছেন। যমীনকে
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বিস্তৃত করে আল্লাহ তাআ’লাই এটাকে বিছিয়ে দিয়েছেন। এতে দৃঢ়
পাহাড় তিনিই স্থাপন করেছেন। এতে নদ-নদী ও প্রস্রবণ তিনিই প্রবাহিত করেছেন। এর ফলে
বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন রং এর এবং বিভিন্ন স্বাদের ফল মূলের বৃক্ষাদি সিঞ্চিত হয়ে
থাকে। জোড়ায় জোড়ায় ফলমূল তিনিই সৃষ্টি করেছেন। ওগুলির মধ্যে কোনটি মিষ্টি এবং
কোনটি টক। দিবস ও রজনী পর্যায়ক্রমে আসা যাওয়া করছে। একটির আগমন ঘটছে এবং অপরটির
প্রস্থান হচ্ছে। এইসব ব্যবস্থাপনা সেই ব্যাপক ক্ষমতাবান আল্লাহর দ্বারাই হচ্ছে।
আল্লাহ তাআ’লার এইসব নিদর্শন, নিপুণতা এবং প্রমাণাদির উপর
যে ব্যক্তি চিন্তাপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে সে অবশ্যই সুপথ প্রাপ্ত হবে। যমীনের
খণ্ডগুলি মিলিতভাবে রয়েছে। মহান আল্লাহর শক্তি দেখে বিস্মিত হতে হয় যে, পৃথিবীর এক খণ্ডে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়, আবার আর
একখণ্ডে কিছুই জন্মে না। কোন জায়গার মাটি লাল, কোন জায়গার
মাটি সাদা, কোন মাটি কালো, কোনটি
কংকরময়, কোনটা নরম, কোনটা শক্ত,
কোনটা মিষ্টি, কোনটা তিক্ত, কোনটা বালুকাময় এবং কোনটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মোট কথা, এটাও সৃষ্টিকর্তার মহা শক্তির নিদর্শন, যা বলে
দিচ্ছে যে, কার্য্য সম্পাদনকারী, স্বেচ্ছাচারী
এবং সারা বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হচ্ছেন সেই একক, অদ্বিতীয়
এবং অংশীবিহীন আল্লাহ। তিনিই হচ্ছেন সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা। তিনি ছাড়া অন্য কেউ মা'বুদ নেই এবং কোন প্রতিপালকও নেই।
তাফসীরে তাবারী
* * *
আবু জাফর আত তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বলেছেন:
"والله الذي
مَدَّ الأرض"
"আর আল্লাহই পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন,"
অর্থাৎ তিনি এটাকে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বিস্তৃত করেছেন।
* * *
আর তাঁর
বাণী:
(وجعل
فيها رواسي)
"এবং তাতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা," (সূরা রাদ:
৩)
মহান আল্লাহ বলেন: তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন।
* * *
"رواسي" (পর্বতমালা) হলো "راسية" (দৃঢ়ভাবে
প্রতিষ্ঠিত) শব্দের বহুবচন। এটি দ্বারা এমন বস্তুকে বোঝায় যা অটল।
যেমন বলা হয়, "أرسيت الوتد في الأرض" অর্থাৎ "আমি মাটিতে খুঁটি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছি।" ["الإرساء" (স্থাপন) সম্পর্কে পূর্বের ব্যাখ্যা দেখুন ১৩:২৯৩।
যেমন
একজন কবি বলেছেন: (এটি আল-আহওয়াসের কবিতা। )
بِهِ
خَالِدَاتٌ مَا يَرِمْنَ وَهَامِدٌ
وَأَشْعَثُ
أَرْسَتْهُ الْوَلِيدَةُ بِالْفِهْرِ
অর্থাৎ, "সেখানে রয়েছে অটল পাথর যা স্থানচ্যুত হয় না, আর
রয়েছে জমাটবদ্ধ ছাই।
আর একটি কাঠের খুঁটি, যা একটি দাসী পাথর দিয়ে পুঁতে
দিয়েছে।"
(" الخالدات" ও " الخوالد" হলো
চুল্লির পাথর, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী থাকে। "ما يرمن" অর্থ—"সেগুলো স্থানচ্যুত হয় না। "الهامد" হলো জমাটবদ্ধ ছাই। " الأشعث" হলো
কাঠের খুঁটি, যার মাথা ফাটানো হলে তা ছড়িয়ে পড়ে। "الوليدة" হলো দাসী, আর "الفهر" হলো হাতের মুঠোয় ধরা পাথর, যা দিয়ে
খুঁটি পোতা হয়। )
এখানে
"أَرْسَتْهُ" অর্থ হলো "সেটিকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছে।"
* * *
আর তাঁর
বাণী:
(وأنهارًا)
"এবং নদীনালা," (সূরা রাদ: ৩)
অর্থাৎ, তিনি পৃথিবীতে প্রবাহিত পানির নদী সৃষ্টি করেছেন।
......
* * *
[৩] সুরা আন নাযিয়াত (আয়াত নং ৩০)
وَ الْاَرْضَ
بَعْدَ ذٰلِکَ دَحٰىهَا ﴿ؕ۳۰﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: ৩০। এবং
তারপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।[1]
তাফসীর:
[1] পূর্বে
হা-মীম সিজদার ৯ আয়াতে উল্লেখ হয়েছে যে, خلق (সৃষ্টি করা) এক জিনিস এবং دحى (সমতল, বিস্তৃত ও বাসোপযোগী করা) করা অন্য এক জিনিস। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে আকাশের
পূর্বে। কিন্তু তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পর। এখানে সেই তত্ত্বই বর্ণিত হয়েছে।
সমতল ও বিস্তৃত করার মানে হল, পৃথিবীকে সৃষ্টির বাসোপযোগী
করার জন্য যে সমস্ত জিনিসের প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি গুরুত্ব দিলেন। যেমন,
যমীন থেকে পানি নির্গত করলেন অতঃপর তা হতে নানা খাদ্যসামগ্রী উৎপন্ন
করলেন। পাহাড়সমূহকে পেরেকস্বরূপ মজবুতভাবে যমীনে গেড়ে দিলেন যাতে যমীনটা না হিলে।
যেমন, আগামী আয়াতসমূহে এর বর্ণনা রয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
دَحَاهَا অর্থাৎ জমিনকে বিস্তৃত করেছেন। এ
আয়াত প্রমাণ করে যে, জমিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টি করার পর। এ আয়াত এবং ثم استوي إلي السماء এ আয়াতের মাঝে কোন বৈপরিত্য নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে
জমিনকে অবিস্তৃত অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, তারপর আকাশ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর জমিনকে বিস্তৃত করেছেন। অনেক
বিদ্বানগণ বলেছেন : এখানে بعد বা পরে শব্দটি مع
বা সাথে অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ তিনি আকাশ, চন্দ্র, সূর্য,
দিন ও রাত ইত্যাদি সৃষ্টি করার সাথে সাথে জমিনকে বিস্তৃত করেছেন।
যেমন নিন্মোক্ত আয়াতগুলোতে بعد বা পরে শব্দটি مع
বা সাথে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحٰىهَا
অর্থাৎ ইহার পর পৃথিবীকে বিস্তৃত করিয়াছেন।
এই
আয়াতের ব্যাখ্যায় পরবর্তী আয়াতে বলা হইয়াছে:
أخْرَجَ
مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعُهَا
অর্থাৎ পৃথিবী হতে তিনি বহির্গত করিয়াছেন পানি ও তৃণ।
উল্লেখ্য
যে, সূরা হামীম সাজদায় বলা হইয়াছে যে, পৃথিবীকে
আকাশ সৃষ্টির পূর্বে সৃষ্টি করা হইয়াছে। কিন্তু পৃথিবীর বিস্তার ও নিয়ামতের
বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হইয়াছে আকাশ সৃষ্টির পরে। ইব্ন আব্বাস (রা) সহ আরো অনেক হইতে
এইরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনু জারীর তাবারী (রহ.)-ও ইহাই পছন্দ করিয়াছেন।
তাফসীরে তাবারী
অতঃপর
আল্লাহ্ তা'আলার বাণী:
وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
অর্থাৎ অতঃপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। মুফাসসিরগণ আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: بعد ذلك অর্থাৎ অতঃপর
এর মধ্যে মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, আসমান সৃষ্টির পর
আল্লাহ্ পাক যমীনকে সৃজন ও বিস্তীর্ণ করেছেন।
আলী.... ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্
পাক যেখানে আসমান সৃষ্টির পূর্বে যমীন সৃষ্টির কথা বলেছেন, বা
যমীন সৃষ্টির পূর্বে আসমান সৃষ্টির কথা বলেছেন এর তাৎপর্য এই যে, আল্লাহ্ পাক যমীনকে বিস্তৃত করার পূর্বে এর মূল অংশকে আসমান সৃষ্টির আগে
তৈরি করেন। অতঃপর তিনি আকাশকে সপ্তস্তরে বিন্যাস করার পর যমীনকে বিস্তৃত করেন।
এটাই وَالْأَرْضُ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا -এর অর্থ।
মুহাম্মদ
ইবন সা'দ..... ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর বাণী: وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا -এর অর্থ হলো আল্লাহ্ তা'আলা আসমান ও
যমীনকে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ তিনি যমীনকে বিস্তৃত ও আসমান তৈরির আগে যমীনের মূল
অংশকে তৈরি করেন। অতঃপর তিনি আসমান সৃষ্টি ও একে সপ্ত স্তরে সুবিন্যস্ত করার পর
যমীনকে বিস্তৃত করেন এবং তার উপর পাহাড়-পর্বত সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। অতঃপর তিনি
যমীনকে বৃক্ষ-লতাদি উৎপাদনের উপযুক্ত করে তৈরি করেন। যেমন পরবর্তী আয়াতে উল্লেখ
আছে : وآخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَهَا অর্থাৎ তিনি তা থেকে এর পানি ও উদ্ভিদ খাদ্য বের করেছেন।
ইব্ন
হুমায়দ...... ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, দুনিয়া সৃষ্টির এক হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন চারটি
স্তম্ভের উপর তাঁর ঘর বা বায়তুল্লাহ্র বুনিয়াদ পানির উপর রাখেন। অতঃপর বায়তুল্লাহ্
নীচ থেকে ক্রমান্বয়ে তিনি যমীনকে বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত করেন।
ইবন
হুমায়দ...... আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর ঘরকে পৃথিবী
সৃষ্টির এক হাজার বৎসর পূর্বে সৃষ্টি করেন এবং 'বায়তুল্লাহ্'
হতে যমিন সম্প্রসারণ ও বিস্তৃত করার কাজ শুরু করেন।
অবশ্য
কারো কারো মতে, আল্লাহ্র কালাম: وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا এই আয়াতে বর্ণিত بعد অর্থাৎ পরে শব্দের স্থানে مع বা 'সাথে' শব্দের অর্থ হবে। তাদের মতে আসমান সৃষ্টির আগে
যমীন সৃষ্টি ও বিস্তৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ্ পাকের কালামের দ্বারা বুঝা যায়। যথা:
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى
إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَات .
অর্থাৎ 'তিনিই আল্লাহ্! যিনি যমীনের সবকিছু তোমাদের
উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আসমানের দিকে ইচ্ছা করেন এবং একে সপ্তস্তরে
সুবিন্যস্ত করেছেন।'
অতএব এই
আয়াতে দেখা যায় যে, আল্লাহ্ পাক যমীন সৃষ্টির পরে আসমান সৃষ্টি
ও সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর প্রশ্ন আসে যে, বাস্তব ব্যাপার
যদি এটাই হয় তবে আল্লাহ্ পাক আবার এরূপ কেন বলেন: الْأَرْضُ بَعْدَ
ذَلِكَ دَحَامًا', অর্থাৎ 'অতঃপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।'
এ
ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আমি আগেই বর্ণনা করেছি যে, এখানে بعد শব্দের অর্থ পরে হবে না, বরং مع বা 'সাথে' হবে অর্থাৎ وَالْأَرْضَ
مَعَ ذَلِكَ دَحَاهَا এর অর্থ হবে, কেননা কুরআন মাজীদে এ ধরনের বাগধারা বা কথার পদ্ধতি একাধিক রয়েছে।
যেমন: عتل بعد ذلك زينم অর্থাৎ 'দুর্ধর্ষ অত্যাচারী সাথে সাথে বদজাতও।'
অর্থাৎ مع ذلك زينم এরূপ কেউ যদি কাউকে বলে 'তুমি আহমক অতঃপর তুমি অসম্মানিত।' এখানেও পরে শব্দের
অর্থ অতঃপর বা সাথে হয়েছে।
একইভাবে
আল্লাহ তায়ালার বাণী:
وَلَقَدْ
كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بعد الذِّكْرِ এখানে অর্থে بعد الذكر না হয়ে قبل الذكر এর অর্থ হবে।
যেমন কবি হুযালি তার কবিতায় বলেছেন:
حمدت
الهي بعد عروة اذنجا + حراش وبعض الشر أهون من بعض.
অর্থাৎ 'আমি ওরওয়ার পূর্বে আমার প্রভুর প্রশংসা
করেছিলাম, যখন হারাশ মুক্তি পেয়েছিল। এ সময় দুষ্টেরা একে
অপরের দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হচ্ছিল।'
এখানে
অর্থে بعد
عروة বা ওরওয়ার পরে না হয়ে ل قبل عروة ওরওয়ার পূর্বের অর্থ হবে।
আবু
কুরাইব...... মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বাণী : وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا -এর অর্থ مَعْ
ذَلِكَ دَحَاهَا
ইব্ন
বাশার...... মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছন যে, আল্লাহ্ কালাম : وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا -এর অর্থ عندَ
ذَلِكَ دَحَاهَا
আবদুর
রহমান ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল হাকিম...... মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন যে,
আল্লাহর বানীঃ - وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
এর অর্থ করেছেন مَعَ ذَلِكَ دَحَاهَا
মুহাম্মদ
ইব্ন খাল্ফ আস্কালানী....... সুদ্দী হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর কালাম : وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ
دَحَاهَا এখানে بعد বা 'পরে' শব্দটির স্থানে مع বা 'সাথে' শব্দের অর্থ
হবে।
যথা : وَالْأَرْضُ
بَعْدَ ذلِكَ دَحَاهَا
ইব্ন আব্বাস (রা) হতে আল্লাহ পাকের যে কালাম সম্পর্কে আগে উল্লেখ হয়েছে যথাঃ
خلق
الأرض، وقدّر فيها أقواتها
অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক যমীন সৃষ্টির পর, তিনি এর মধ্যে এর
শক্তির উৎসের সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি যমীনকে বিস্তৃত বা বিস্তীর্ণ করেন নাই।
অতঃপর তিনি আসমানের দিকে ইচ্ছা করেন এবং একে সপ্তস্তরে সুবিন্যস্ত করেন এবং এর পর
যমীনকে বিস্তৃত করেন। তারপর তিনি তা থেকে এর পানি ও উদ্ভিদ খাদ্য বা চারণভূমি বের
করেন এবং এরপর পাহাড়-পর্বতকে এর উপর সুপ্রতিষ্ঠিত করেন ইত্যাদি যা আয়াতের প্রকাশ্য
অর্থে বুঝা যায়।
অতঃপর
আল্লাহ জাল্লা শানুহুর কালাম যথা:
وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
এখানে এটা সুপ্রসিদ্ধ যে, بعد শব্দে অর্থ قبل শব্দের বিপরীত। কেননা بعد অর্থ পরে এবং قبل অর্থ পূর্বে। যদি যমীনের বিস্তৃতি সপ্তাকাশ সৃষ্টি ও সুবিন্যস্ত
করার পর না হয়, তবে আয়াতের অর্থের মধ্যে সংগতি থাকে না।
যেমন
উল্লেখ আছে:
رَفَعَ
سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا - وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا - وَالْأَرْضَ
بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
অর্থাৎ 'তিনি আকাশকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন,
তিনি এর রাত্রিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং দিনকে প্রকাশ করেছেন। অতঃপর
তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।' কেননা আহলে আরবদের পরিভাষায় مد ও دحو শব্দের অর্থ হলো بسط বা বিস্তৃত।
যেমন
উমাইয়া ইব্ন আবূ সালতের কবিতায় দেখা যায়ঃ
دار
دحاها ثم اعمر نابها + واقام بالاخرى التي هي امجد.
অর্থাৎ 'আমরা ঘরকে ভাংগার পর এর মাটিকে বিস্তৃত করি
অতঃপর সেখানে নতুন ঘর তৈরি করি, যা পূর্বের ঘর থেকে উত্তম।'
আরবী
আভিধানিক পরিভাষায় دحو শব্দটির রূপান্তর দু'ভাবে লক্ষ্য করা যায়। যথা: يدحو دَحًا অতঃপর ا دَحْيا أَدْحًا دَحِيَتْ دَحْوا
আউস ইব্ন
হাজার বৃষ্টির বর্ণনায় যেমন - শব্দের প্রয়োগ করেছেন। যথা:
يبقى
الحصا عن جديد الارض مندرت + كانه فاحص اولاعث داح .
অর্থাৎ 'বৃষ্টির পানিতে নতুন মাটি ধুয়ে পানির সাথে
চলে যাওয়াতে কেবল মাটির সাথে মিশ্রিত পাথরের নুড়িগুলি অবশিষ্ট রয়েছে, যেগুলি পরের দোষ অন্বেষণকারীর ন্যায় প্রকাশমান।'
উপরোক্ত
আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ এরূপ বিভিন্ন প্রকার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
বাশার......
আবু কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণনা করেছেন যে,
আল্লাহর বাণী:
وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
এই আয়াতের دَحَاهَا শব্দের অর্থ بسطها অর্থাৎ একে বিস্তৃত করেছেন।
মুহাম্মদ ইব্ন খাল...... সুদ্দী হতে বর্ণনা করেছেন যে এ শব্দে অর্থ হলো بسطها
ইবন বাশার......হতেও একইরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইউনুস......
ইব্ন যায়দ হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ পাকের কালাম: دَحَاهَا শব্দের অর্থ হলো উদ্ভিদ বা খাদ্যশস্য উদ্গত হওয়ার কারণে যমীন
ফেটে যাওয়া। যেমন
আল্লাহ
পাকের কালামের পরবর্তী আয়াতে উল্লেখ আছে। যথা: اَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا
وَمَرْعَهَا অর্থাৎ 'তিনি তা থেকে এর
পানি ও খাদ্যশস্য বের করেছেন', এ প্রসঙ্গে তিনি আল্লাহ পাকের
বিভিন্ন বাণী যথা : فَاكِهَةً وَأَبًا ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ
شَقًا পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। এভাবে আল্লাহ্ পাক
যখন যমীনকে দ্বিধাবিভক্ত করেন, তখন তা থেকে ফসলাদি উৎপন্ন
হতে থাকে। এছাড়া তিনি আরো তিলাওয়াত করেন, যথা : وَالْأَرْضِ
ذَاتِ الصَّدْعِ অর্থাৎ 'যমীন ও
দ্বিধাবিভক্তশীল বস্তু।'
অতঃপর
আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলার বাণী: أَخْرَجَ مِنْهَا
مَاءَهَا -এর অর্থ হলো তিনি তা থেকে এর নদী বা
প্রস্রবণ প্রবাহিত করেন' এবং وَمَرْعاها শব্দে অর্থ হলো তিনি তা থেকে উদ্ভিদ ও ফসলাদি উৎপন্ন করেন। এটাই
মুফাসসিরগণের নিকট উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা।
হুসায়ন......
যাহ্হাক হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্ বাণী: أَخْرَجَ
مِنْهَا مَاءَهَا -এর অর্থ হলো আল্লাহ্ তা'আলা যমীন হতে নদ-নদী ও প্রস্রবণ প্রবাহিত এবং উদ্ভিদ ও ফসলাদি নির্গত
করেছেন।
অতঃপর
আল্লাহ্ পাকের কালাম, যথা : وَالْجِبَالَ
أَرْسَاهَا অর্থাৎ 'তিনি এতে পর্বতকে
দৃঢ়ভাবে সংস্থাপন করেছেন।'
বাশার.......
আবু কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বাণী : وَالْجِبَالَ
أَرْسَاهَا এর অর্থ হলো তিনি পর্বতরাজীকে এ জন্য যমীনের
উপর সৃষ্টি করেছেন, যাতে যমীন তার বাসিন্দাদের নিয়ে স্থির হয়ে
থাকে।
ইব্ন
হুমায়দ...... আলী হতে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন যমীনকে সৃষ্টি করেন, তখন যমীন এ বলে আল্লাহ্র
দরবারে অভিযোগ পেশ করে যে, ইয়া আল্লাহ! আপনি আদম (আ) এবং
তাঁর বংশধরদেরকে আমার পিঠের উপর বসবাস করার জন্য তৈরি করেছেন, যারা আমার উপর পেশাব-পায়খানা ও পাপের কাজও করবে। অতঃপর আল্লাহ পাক একে
এমনভাবে তৈরি করেন, যার কিছু অংশ তোমরা দেখতে পাচ্ছ এবং এর
এমন অনেকাংশ রয়েছে, যা তোমরা দেখতে পাও না এবং যে সম্পর্কে
কোন খোঁজ-খবর ও অভিজ্ঞতা রাখ না। অতঃপব দুনিয়ায় প্রথমে বকরীর গোশত ও পরে উটের গোশত
বৈধ করা হয়।
[৪] সূরা নাবা (আয়াত নং ৬)
اَلَمْ
نَجْعَلِ الْاَرْضَ مِهٰدًا ۙ﴿۶﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: ৬। আমি কি
পৃথিবীকে শয্যা (স্বরূপ) সৃষ্টি করিনি? [1]
তাফসীর:
[1]
অর্থাৎ, বিছানার মত তোমরা ভূপৃষ্ঠের উপর চলা-ফেরা কর, উঠা-বসা কর, শয়ন কর এবং সমস্ত কাজ-কর্ম করে থাক।
পৃথিবীকে তিনি বিক্ষিপ্তভাবে হেলা-দোলা থেকে রক্ষা করেছেন।
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
অতঃপর
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বড় বড় কয়েকটি নিদর্শনের বিবরণ দিচ্ছেন যাতে মানুষ সহজেই কিয়ামত
সংঘঠিত হওয়ার সত্যতা অনুধাবন করতে পারে। তিনি জমিনকে সৃষ্টি করেছেন مِهَادًا বা বিছানাস্বরূপ। এজন্য মায়ের কোলকে مهد বা বিছানা বলা হয়। কারণ মায়ের কোল শিশুর বিছানা, সেখানে সে ঘুমায়। তাই ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে বলা হয়েছে :
(وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَّمِنَ
الصّٰلِحِيْنَ)
“আর তিনি শৈশবে (মায়ের কোলে) এবং বার্ধক্যে মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং নেককারদের
অন্তর্ভুক্ত হবেন।” (সূরা আলি ইমরান ৩ : ৪৬)
أَوْتَادًا শব্দটি وتد এর বহুবচন, অর্থ হলো পেরেক। অর্থাৎ পাহাড়কে তিনি পেরেকস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন যাতে জমিন
নড়াচড়া করতে না পারে। কেননা পৃথিবী নড়াচড়া করলে বসবাস করা সম্ভব হতো না। এ বিশাল ও
বিস্ময়কর সৃষ্টি যিনি প্রথমবার অস্তিত্বে এনেছেন কেবল একটা হুকুম ‘কুন ফা-ইয়াকুন’
(হও, অতএব হয়ে গেল) এর মাধ্যমে, সুতরাং
তাঁর পক্ষে মানুষের মত একটা ক্ষুদ্র জীবকে পুনরায় সৃষ্টি করা ও পুনরুত্থান ঘটানো
কোন ব্যাপারই নয়।
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
এরপর
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বিস্ময়কর সৃষ্টির সূক্ষ্মতার
বর্ণনা দেয়ার পর নিজের আজীমুশশান ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন, যার
দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, তিনি এসব জিনিস কোন নমুনা ছাড়াই
প্রথমবার যখন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি দ্বিতীয়বারও ওগুলো সৃষ্টি করতে
সক্ষম হবেন। তাই তো তিনি বলেনঃ আমি কি ভূমিকে শয্যা (রূপে) নির্মাণ করিনি?'
অর্থাৎ আমি সমস্ত সৃষ্টজীবের জন্যে এই ভূমিকে কি সমতল করে বিছিয়ে
দিইনি? এই ভাবে যে, ওটা তোমাদের সামনে
বিনীত ও অনুগত রয়েছে। নড়াচড়া না করে নীরবে পড়ে রয়েছে। আর পাহাড়কে আমি এই
ভূমির জন্যে পেরেক বা কীলক করেছি যাতে এটা হেলাদোলা না করতে পারে এবং ওর উপর
বসবাসকারীরা যেন উদ্বিগ্ন হয়ে না পড়ে।
[৫] সূরা ত্ব-হা (আয়াত নং ৫৩)
الَّذِیْ
جَعَلَ لَکُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّ سَلَکَ لَکُمْ فِیْهَا سُبُلًا وَّ اَنْزَلَ
مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ فَاَخْرَجْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْ نَّبَاتٍ شَتّٰی
﴿۵۳﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) যিনি
তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে করে দিয়েছেন তোমাদের চলবার পথ। তিনি
আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন
করি।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
অতঃপর
মূসা (عليه
السلام) আরো বর্ণনা করে দিচ্ছেন, আমি সে আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াত দিচ্ছি যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে
করেছেন বিছানা এবং তাতে করে দিয়েছেন তোমাদের জন্য চলাচলের পথ। তিনি আকাশ হতে পানি
বর্ষণ করেন আর আমরা তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। যা তোমরা আহার
কর। তোমাদের গবাদি পশু চরাও।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
ھُوَ
الَّذِیْٓ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَا۬ئِ مَا۬ئً لَّکُمْ مِّنْھُ شَرَابٌ وَّمِنْھُ
شَجَرٌ فِیْھِ تُسِیْمُوْنَﭙیُنْۭبِتُ لَکُمْ بِھِ الزَّرْعَ وَالزَّیْتُوْنَ
وَالنَّخِیْلَ وَالْاَعْنَابَ وَمِنْ کُلِّ الثَّمَرٰتِﺚ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیَةً
لِّقَوْمٍ یَّتَفَکَّرُوْنَ
“তিনিই
আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন। তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে পানীয় এবং তা হতে জন্মায়
উদ্ভিদ যাতে তোমরা পশু চারণ করে থাকো। তিনি তোমাদের জন্য সেটার দ্বারা জন্মান শস্য, যায়তুন, খেজুর বৃক্ষ, আঙ্গুর
এবং সর্বপ্রকার ফল। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।” (সূরা
নাহল ১৬:১০-১১)
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
মূসা
(আঃ) ফিরাউনের প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ তাআলার গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে আরো বলেনঃ
ঐ আল্লাহই যমীনকে লোকদের জন্যে বিছানা বানিয়েছেন। (আরবী) শব্দটি অন্য কিরআতে
(আরবী) ও রয়েছে ।
মহান আল্লাহ যমীনকে বিছানারূপে বানিয়ে দিয়েছেন, যেন তোমরা
তার উপর স্থির থাকতে পারো এবং ওরই উপর শুইতে, বসতে ও চলা
ফেরা করতে পারো। তিনি যমীনে তোমাদের চলা ফেরা ও সফর করার জন্যে পথ বানিয়ে
দিয়েছেন, যাতে তোমরা পথ ভুলে না যাও এবং সহজেই গন্তব্যস্থলে
পৌঁছতে পারো। তিনিই আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে যমীন হতে
বিভিন্ন প্রকারের ফসল উৎপন্ন করেন। তোমরা তা নিজেরা খেয়ে থাকো এবং তোমাদের গবাদি
পশু গুলিকেও আহার করিয়ে থাকো। তোমাদের খাদ্য, ফল-ফলাদি এবং
তোমাদের জীব জন্তুর চারা-ভূষি শুষ্ক ও সিক্ত সবকিছুই এই বৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহ
তাআলা উৎপন্ন করে থাকেন। এই সব নিদর্শন দলীল হচ্ছে আল্লাহর আল্লাহ হওয়ার এবং তার
একত্ব ও অস্তিত্বের উপর।
[৬] সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত নং ৪৮)
وَ الْاَرْضَ
فَرَشْنٰهَا فَنِعْمَ الْمٰهِدُوْنَ ﴿۴۸﴾
তাফসীরে আহসানুল
বায়ান
অনুবাদ: ৪৮. আর যমীন,
আমরা তাকে বিছিয়ে দিয়েছি, অতঃপর কত সুন্দর
ব্যবস্থাপনাকারী(১) (আমরা)!
তাফসীর:
(১) مَاهِدُونَ শব্দের অর্থ দুটি। এক. বিছানার মত সুন্দরভাবে বিছিয়ে দেয়া। দুই.
সুন্দর ব্যবস্থাপনা তৈরী করা [দেখুন, কুরতুবী]।
তাফসীরে ফাতহুল
মাজীদ
আর তিনি
জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন যাতে চলাচলের উপযোগী হয়। আর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায়
জোড়ায় তথা নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব যে আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু করেছেন তার কাছে ফিরে যাও, সৎ কাজ কর ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে তার কাছেই তাওবা কর।
আল্লাহ তা‘আলা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন কোন ক্রমেই আমরা তাঁর সাথে
অংশীদার স্থাপন না করি।
তাফসীরে ইবনে
কাসীর
মহান
আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে
বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন
আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও
চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার,
ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে,
যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা
তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে
স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল
(সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।