[১]
ইমাম মুকাতিল ইবনে সুলায়মান (রাহিমাহুল্লাহ)
[মৃত্যু ১৫০ হিজরী]
তিনি
তাঁর তাফসীর গ্রন্থে আল্লাহ তায়ালার এই আয়াত:
{وَهُوَ
الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ}
– এর
ব্যাখ্যায় বলেন:
يعني بسط
الأرض من تحت الكعبة فبسطها بعد الكعبة بقدر ألفى سنة [187 أ] فجعل طولها مسيرة
«2» خمسمائة عام وعرضها مسيرة خمسمائة عام
❝এর অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা কাবার নিচ থেকে পৃথিবীকে বিস্তৃত
করেছেন। তিনি কাবা প্রতিষ্ঠার পর দুই হাজার বছর ধরে পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন। ফলে
পৃথিবীর দৈর্ঘ্য হয়েছে ৫০০ বছরের পথ পরিমাণ এবং প্রস্থও ৫০০ বছরের পথ পরিমাণ।❞
[المصدر :
تفسير مقاتل بن سليمان - ج 2 - ص 366]
তিনি একই
তাফসীর গ্রন্থে সূরা আল-গাশিয়াহ (৮৮:২০) আয়াত:
{وَإِلَى
الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}
– এর
ব্যাখ্যায় বলেন:
يعني كيف
بسطت من تحت الكعبة مسيرة خمسمائة عام
❝অর্থাৎ, কিভাবে কাবার নিচ থেকে পৃথিবীকে ৫০০ বছরের পথ পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।❞
[المصدر :
تفسير مقاتل بن سليمان - ج 4 - ص 679]
তিনি
তাঁর তাফসীরে, আয়াত والأرض مددناها–এর ব্যাখ্যায়
বলেন:
يعنى بسطناها
يعنى مسيرة خمسمائة عام طولها وعرضها وغلظها مثله فبسطها من تحت الكعبة
❝এর অর্থ হলো, আমরা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি - অর্থাৎ এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ
ও পুরুত্ব প্রতিটিতে পাঁচশ বছরের পথ পরিমাণ। সুতরাং আল্লাহ তা কাবার নিচ থেকে
এভাবে বিস্তৃত করেছেন।❞
«تفسير مقاتل
بن سليمان» (2/ 426)
[২] ইমাম আবু বাকর আল-আসাম (রাহিমাহুল্লাহ)
[মৃত্যু ২২৫ হিজরী]
তিনি তার
তাফসিরে আল্লাহ তায়ালার এই বাণীঃ
وَهُوَ
الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ
এর
ব্যাখ্যায় বলেন,
المد هو
البسط إلى ما لا يدرك منتهاة .
"পৃথিবীর
(সমতলে) বিস্তার এমনভাবে হয়েছে যে এর শেষ সীমা জানা সম্ভব নয়।"
تفسير أبي
بكر الأصم [82]
[৩] আবু আলী আল-জুব্বাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু
৩০৩ হিজরী]
তিনি তার
তাফসীরে আল্লাহ তায়ালার এই বাণীঃ
الَّذِیْ
جَعَلَ لَکُمُ الْاَرْضَ فِرَاشًا وَّ السَّمَآءَ بِنَآءً ۪ وَّ اَنْزَلَ مِنَ
السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجَ بِهٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزْقًا لَّکُمْ ۚ فَلَا
تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ اَنْدَادًا وَّ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
এর
ব্যাখ্যায় বলেন,
واستدل أبو
علي الجبائي بهذه الآية على أن الأرض بسيطة ليست كرة كما يقول المنجمون والبلخي
بأن قال: جعلها فراشاً والفراش البساط بسط الله تعالى أباها والكرة لا تكون مبسوطة
"আবু
আলী আল-জুব্বাঈ এই আয়াত দ্বারা দলিল দিয়েছেন যে, পৃথিবী
সমতল, জ্যোতিষবিদ ও আল-বালখীর মত গোলাক আকৃতির নয়। তাঁর
যুক্তি: আল্লাহ পৃথিবীকে 'ফিরাশ' (বিছানা)
বলেছেন, আর বিছানা হলো সমতল আসন। আল্লাহ তাআলা একে সমতল
করেছেন, আর গোলাকার বস্তু কখনো সম্পূর্ণ সমতল হতে পারে
না।"
تفسير أبي
علي الجبائي [68]
[৪] ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ)
[২২৪-৩১০ হিজরী]
ইমাম
তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের ১৩ নং সূরার ৩ নং আয়াতের 'আর তিনিই পৃথিবীকে বিছিয়ে দিয়েছেন বা সম্প্রসারিত করেছেন'
এর
তাফসীরে উল্লেখ করেছেনঃ
وَهُوَ
الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ
"আল্লাহ তা'আলা
পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করেছেন"
এর অর্থ হলো,
فبَسَطَها
طولًا وعرضًا.
"তিনি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দিক থেকে পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।"
[তাফসীরে তাবারী ১৩/৪১৩]
فسير الطبري
[13/413]
*তথ্যসূত্র - https://shamela.ws/book/7798/9131
[৫] ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) [২৪৫-৩২৪
হিজরী]
ইমাম ইবনে মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআনের সূরা নূহ এর ১৯ নং আয়াতের তাফসীরে বলেন,
لو كانت
الأرض كروية لما استقر الماء عليها.
"পৃথিবী যদি বলের মতো (গোলাকার) হতো, তবে ভূপৃষ্ঠে কোনো পানি থাকতো না।"
تفسير
ابن عطية - [5/375]
*তথ্যসূত্র - https://shamela.ws/book/23632/2622#p1
[৬] ইমাম সামারকান্দী (রাহিমাহুল্লাহ) [৩৭৩ হিজরী]
ইমাম
সামারকান্দী (রাহিমাহুল্লাহ)
তার
তাফসীরে সামারকান্দী-তে ৩য় খন্ড ৩৩৩ নং পৃষ্ঠায়,
আল্লাহ
তায়ালার এই বাণীঃ
«وَالْأَرْضَ
مَدَدْناها»
এর
ব্যাখ্যায় বলেনঃ
يعني:
بسطناها مسير خمسمائة عام من تحت الكعبة،
অর্থাৎ
"আমরা তা বিস্তৃত করেছি কাবা'র নীচ থেকে পাঁচশত
বছরের পথের দূরত্বে।"
«تفسير
السمرقندي = بحر العلوم» (3/ 333)
তাফসীরে
সামারকান্দী-তে ৩য় খন্ড ৩৪৭ নং পৃষ্ঠায়,
আল্লাহ
তায়ালার এই বাণীঃ
«وَالْأَرْضَ
فَرَشْناها»
এর
ব্যাখ্যায় বলেনঃ
يعني: وفي
الأرض آية، بسطناها مسيرة خمسمائة عام من تحت الكعبة
অর্থাৎ
"এবং পৃথিবীতে একটি নিদর্শন রয়েছে, আমরা তা বিস্তৃত
করেছি কাবা'র নীচ থেকে পাঁচশ বছরের পথের দূরত্বে।"
«تفسير
السمرقندي = بحر العلوم» (3/ 347)
[৭] মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আল-মালাতী
(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৩৭৭ হিজরী]
তার
আক্বীদার কিতাবে বলেন,
{وَالْأَرْض
بعد ذَلِك دحاها} يَعْنِي بعد خلق السَّمَوَات {دحاها} يَعْنِي بسطها من تَحت الْكَعْبَة
"{এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন} অর্থাৎ, আকাশসমূহ সৃষ্টির পর; {দাহা'হা}
- অর্থাৎ আল্লাহ পৃথিবীকে কাবার নীচ থেকে সমতলে বিস্তৃত
করেছেন।"
«التنبيه
والرد على أهل الأهواء والبدع» (ص71)
[৮] ইমাম কাহতানী আল আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ)
(মৃত্যু ৩৮৭ হিজরী)
ইমাম
কাহতানী আল আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ)
তার বিখ্যাত কবিতা "নুনিয়্যাতুল কাহতানী" ( نونية القحطاني ) এর ৩২-৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
كذب المهندس والمنجم مثله
فهما لعلم الله مدعيان
الأرض عند كليهما كروية
وهما بهذا القول مقترنان
والأرض عند أولي النهى لسطيحة
بدليل صدق واضح القرآن
والله صيرها فراشا للورى
وبنى السماء بأحسن البنيان
والله أخبر أنها مسطوحة
وأبان ذلك أيما تبيان
"মিথ্যে
বলেছে জ্যোতির্বিদ ও জ্যামিতিবিদ,
তারা তো আল্লাহর গায়েবি ইলমের দাবিদার,
তাদের উভয়ের একই উক্তি- পৃথিবী গোলাকার।
এই কথায় তারা উভয়ই সমান।
আর বিচক্ষণ লোকদের নিকট পৃথিবী সমতল
কুরআনের নির্ভুল ও স্পষ্ট দলিল দ্বারা প্রমাণিত ।
সৃষ্টিকুলের জন্য আল্লাহ পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন।
সর্বোত্তম গঠনে বানিয়েছেন আসমান।
আল্লাহ জানিয়ে দিলেন- পৃথিবী সমতল।
এবং তিনি তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/7533/16
[৯] আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ)
[৩১০-৪১৪ হিজরী]
আবু
হাইয়ান আল-আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা নূহ এর ১৯ নং আয়াত
وَ اللّٰهُ
جَعَلَ لَكُمُ الۡاَرۡضَ بِسَاطًا
এর
"بِسَاطًا" শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে বলেছেনঃ
وَظَاهِرُهُ
أَنَّ الْأَرْضَ لَيْسَتْ كُرَوِيَّةً بَلْ هِيَ مَبْسُوطَةٌ
"যাহের অর্থ হল পৃথিবী গোলাকার নয়, বরং সমতল।"
البحر المحيط
في التفسير (10/ 284)
তথ্যসূত্রঃ
https://shamela.ws/book/23591/5915
[১০] ইমাম আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি
(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৪২৯ হিজরী]
ইমাম
আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর উসূল আদ-দীন (أصول الدين) কিতাবের
১২৪ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেন:
والباسط فى
الدلالة على بسط الرزق لمن شاء وعلى انه بسط الأرض ولذلك سماها بساطاً خلاف قول من
زعم من الفلاسفة والمنجمين ان الارض كرية غير مبسوطة .
❝"আল-বাসিত" الْبَاسِطُ (আল্লাহর নামসমূহের একটি) শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয় যে, তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক বিস্তৃত করেন এবং তিনিই পৃথিবীকে সমতল করে
বিছিয়েছেন। এজন্যই তিনি পৃথিবীকে 'বিসাত' (সমতল বিছানা) নামে ডেকেছেন। এটি সেই দর্শনবিদ ও জ্যোতির্বিদদের বক্তব্যের
বিপরীত, যারা মনে করে যে পৃথিবী গোলাক আকৃতির এবং সমতল নয়।❞
[المصدر
: أصول الدين لعبد القاهر البغدادي - ص 124]
তথ্যসূত্রঃ
https://archive.org/details/osooluldeen/page/n124/mode/1up
[১১] ইমাম মাক্কী ইবনু আবি তালিব (রাহিমাহুল্লাহ)
[মৃত্যু ৪৩৭ হিজরী]
তিনি
তাঁর তাফসীরগ্রন্থ الهداية إلى بلوغ
النهاية–তে আল্লাহ তায়ালার নিম্নোক্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায়
লিখেছেন:
১. আল্লাহ তায়ালা বলেন:
{وَالْأَرْضَ
مَدَدْنَاهَا} — “এবং আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি।” (সূরা ক্বাফ: ৭)
أي:
وينظرون إلى الأرض كيف مددنا مسطحة لا اعوجاج فيها.
❝অর্থাৎ, তারা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে
দেখুক, কিভাবে আমি একে বিস্তৃত করেছি— একটি সমতল ভূমির মতো,
যাতে কোনো বক্রতা নেই।❞
[المصدر :
الهداية إلى بلوغ النهاية - ج ١١ - ص ٧٠٣١]
২. সূরা আল-গাশিয়াহ: ২০–এর আয়াত:
{وَإِلَى
الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}
“এবং
পৃথিবীর প্রতি তাকিয়ে দেখ, কিভাবে তা সমতল করা হয়েছে।”
أي بسطها
فجعلها مستوية وطيئة ليتصرف عليها الخلق ولا يمتنعون من أسفارهم.
❝অর্থাৎ, আল্লাহ্ তায়ালা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন এবং একে সমতল ও সমান করেছেন,
যাতে সৃষ্টিজীব (মানুষ) তার উপর চলাফেরা করতে পারে এবং তাদের যাত্রা
বাধাগ্রস্ত না হয়।❞
[المصدر :
الهداية إلى بلوغ النهاية - ج ١٢ - ص ٨٢٢٧]
{فَسَوَّاهَا}
“তিনি
তাকে সমান করলেন” — এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন:
أي: جعلها
مستوية لا شيء منها أرفع من شيء ولا شيء منها أخفض من شيء.
❝তিনি একে সমানভাবে সমতল
করেছেন, যাতে এর কোনো অংশ অন্য অংশের চেয়ে উঁচু না হয় এবং কোনো অংশ
নিচু না হয়।❞
«الهداية
الى بلوغ النهاية» (12/ 8040)
[১২] ইমাম আল-মাওয়ার্দী (রাহিমাহুল্লাহ) [৩৬৪-৪৫০
হিজরী]
ইমাম
আল-মাওয়ার্দী (রাহিমাহুল্লাহ) তার তাফসীরে মারওয়ার্দীতে লিখেছেন,
আল্লাহ
বলেছেনঃ
وهو الذي مد
الأرض
"এবং তিনিই পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন, (১৩:০৩)
أي بسطها
للاستقرار عليها , رداً على من زعم أنها مستديرة كالكرة.
যার অর্থ হল তিনি এটিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন, যাতে মানুষ এতে স্থিরভাবে বসবাস করতে পারে। এটি তাদের খন্ডন
করে যারা দাবি করে যে এটি একটি বলের মতো গোলাকার।"
তাফসীরে
মাওয়ার্দী [৩/৯২]
[المصدر
: تفسير الماوردي = النكت والعيون - ج 3 - ص 92 ]
তথ্যসূত্রঃ
https://shamela.ws/book/8346/1744#p1
[১৩] ইমাম আল-কুশাইরী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৪৬৫
হিজরী]
তিনি
তাঁর আত-তাইসীর
ফি ইলমিত তাফসির কিতাবের ৪৬২ নম্বর পৃষ্ঠায়, সূরা আল-বাকারাহ-এর আয়াত:
{وَالسَّمَاءَ
بِنَاءً}
– এর
ব্যাখ্যায় বলেন:
وفي الآية
دليل على أن الأرض مبسوطة وليست على هيئة الكرة.
❝এই আয়াতে প্রমাণ রয়েছে
যে, পৃথিবী সমতল এবং এটি গোলক আকৃতির নয়।❞
[المصدر
: التيسير في علم التفسير - ص 462]
তথ্যসূত্রঃ
https://archive.org/details/0620Pdf_201804/page/n460/mode/1up
[১৪] ইমাম আবুল মুযাফফার আস সাম'আনী (রাহিমাহুল্লাহ) [৪৮৯
হিজরী]
তার
তাফসীরে সাম'আনী-এর ৩য় খন্ড ১৩৩ নং পৃষ্ঠায়,
আল্লাহ
তায়ালার এই বাণীঃ
{وَالْأَرْض
مددناها}
এর
ব্যাখ্যায় বলেনঃ
مَعْنَاهُ:
بسطناها، وَيُقَال: إِنَّهَا مسيرَة خَمْسمِائَة سنة فِي مثلهَا، دحيت من تَحت الْكَعْبَة.
"অর্থাৎ
আমরা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং বর্ণিত আছে যে, একে কাবা'র নীচ থেকে ৫০০ বছরের পথব্যাপী (দৈর্ঘ্যে) বিস্তৃত করেছি, (প্রস্থের) দিক থেকেও অনুরুপ।"
«تفسير
السمعاني» (3/ 133)
[১৫] ইমাম আর-রাগীব ইসফাহানী (রাহিমাহুল্লাহ) [৫০২
হিজরী]
তার
তাফসীরের ১ম খন্ড ২৩৮ নং পৃষ্ঠায়,
আল্লাহ
তায়ালার এই বাণীঃ
{وَمِنْهُمْ
أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا
يَظُنُّونَ}
এর
ব্যাখ্যায় বলেনঃ
وأم القرى
لمكة وذلك لنحو ما روى أنه لا خلق الأرض دحاها من تحت الكعبة
"এবং
মক্কাকে 'উম্মুল কুরা' (নগরীদের
মাতৃস্থান) বলা হয়। এটা সেই বর্ণনার আলোকে, যেখানে বলা হয়েছে
যে পৃথিবীর সৃষ্টি শুরু হয়েছিল কাবার নিচ থেকে বিস্তার লাভের মাধ্যমে।"
«تفسير
الراغب الأصفهاني» (1/ 238)
[১৬] ইমাম বুরহান উদ্দিন আল-কিরমানী
(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৫০৫ হিজরী]
ইমাম
বুরহান উদ্দিন আল-কিরমানী (রাহিমাহুল্লাহ) লিখেছেন,
وقوله:
(وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا) .
أي
بسطناها، وهذا دليل على أن الأرض مبسوطة وليست على شكل
الكرة.
الغريب:
المد التطويل، والمدور والكرة لها عرض وطول وعمق.
قوله:
(وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ (7)
يعني
النبات.
আর আল্লাহর বাণী:
وقوله:
(وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا)
“আর পৃথিবীকে আমরা বিস্তৃত করে দিয়েছি।”
এর মানে: “আমরা একে বিছিয়ে দিয়েছি। এটি
প্রমাণ করে যে পৃথিবী সমতল/বিস্তৃত এবং এটি গোলাক আকৃতির নয়।“
আলোচ্য শব্দের ব্যতিক্রম
অর্থ: “মাদ” অর্থ দীর্ঘ করা বা প্রসারিত করা। আর গোলক বা বল আকৃতির বস্তুতে থাকে
প্রস্থ, দৈর্ঘ্য ও গভীরতা।
«غرائب
التفسير وعجائب التأويل» - (2/ 1129)
*তথ্যসূত্র - https://shamela.ws/book/12820/1022
উক্ত কিতাবের
১ম খণ্ড, ১২৫ নম্বর পৃষ্ঠায়
আল্লাহ
তায়ালার এই আয়াতের ব্যাখ্যায়:
{الَّذِي
جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً}
– তিনি
বলেন:
الفَرش:
البَسط، والفراش: المبسوط للتوطئة.
❝ফারশ মানে বিস্তৃত করা, আর ফিরাশ মানে: বিস্তৃত বিছানা বা এমন কিছু যা পাতা হয় বসার বা শোয়ার
জন্য।❞
ابن عباس:
الفراش المنام، أي مناماً للخلق، والبناء: الوضع على الأساس.
❝ইবন আব্বাস
(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ফিরাশ মানে ঘুমের স্থান, অর্থাৎ মানুষের জন্য ঘুমানোর জায়গা। আর বিনাআ মানে ভিত্তির উপর স্থাপন
করা।❞
الزجاج: ما
علا الأرض بناء.
❝জাজ্জাজ বলেন: যা ভূমির
উপর উঁচু করে নির্মিত হয়।❞
استدل أكثر
المفسرين على أن شكل الأرض بسيط.
❝বেশিরভাগ মুফাসসিরগণ
পৃথিবীর আকার সমতল বলে প্রমাণিত করেছেন।❞
[المصدر
: «غرائب التفسير وعجائب التأويل» - ج 1 - ص 125]
তথ্যসূত্রঃ
https://shamela.ws/book/12820/39
কিতাবের
২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১২৯-এ বলা হয়েছে:
{وَالْأَرْضَ
مَدَدْنَاهَا}
“তিনি
পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।”
أي بسطناها،
وهذا دليل على أن الأرض مبسوطة وليست على شكل الكرة.
❝অর্থাৎ, আমরা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি। আর এটিই প্রমাণ করে যে, পৃথিবী সমতল, গোলাকার আকারের নয়।❞
[১৭] ইমাম বাগাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) [৫১০ হিজরী]
ইমাম
বাগাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)
তার
তাফসীরে বাগাওয়ী-তে ৩য় খন্ড ৫৪ নং পৃষ্ঠায়,
আল্লাহ
তায়ালার এই বাণীঃ
«وَالْأَرْضَ
مَدَدْناها،»
এর
ব্যাখ্যায় বলেনঃ
بَسَطْنَاهَا
عَلَى وَجْهِ الْمَاءِ، يُقَالُ: إِنَّهَا مسيرة خمسمائة عام فِي مِثْلِهَا
دُحِيَتْ مِنْ تَحْتِ الْكَعْبَةِ.
অর্থাৎ
"আমরা একে (যমীন) পানির ওপর বিস্তৃত করেছি। বলা হয় যে, তা পাঁচশ বছরের পথের সমপরিমাণ। এভাবে কাবার নীচ থেকে এটিকে বিছানো
হয়েছে।"
«تفسير
البغوي - إحياء التراث» (3/ 54)
[১৮] ইমাম আব্দুল হক্ব (ইবনু আত্বিয়্যাহ)
(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৫৪২ হিজরী]
ইমাম
আব্দুল হক্ব (ইবনু আত্বিয়্যাহ) আল আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
"وظاهر
هذه الآية أن الأرض سطح لا كرة، وهو الذي عليه أهل العلم، والقول بكريتها وإن كان
لا ينقص ركناً من أركان الشرع، فهو قول لا يثبته علماء الشرع."
"“এই
আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ হলো—পৃথিবী সমতল, গোলক নয়। এবং
এটাই আলেমদের (আহলুল ইলমের) অভিমত। আর পৃথিবীকে গোলক বলা, যদিও
তা শরীয়তের কোনো স্তম্ভকে ভঙ্গ করে না, তবুও এটি এমন একটি মত
যা শরিয়তের আলেমদের দ্বারা প্রমাণিত নয়।" "
📘| تفسير ابن عطية - [5/475]
তথ্যসূত্রঃ
https://shamela.ws/book/23632/2722#p1