18/07/2025

[৫] মুতাআখখিরিনদের বক্তব্য থেকে সমতল পৃথিবীর দলীলসমূহ

 [১] ইমাম ফাখরুদ্দিন আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৬০৬ হিজরী]

তিনি তাঁর বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ মাফাতিহুল গাইব / আত-তাফসীরুল কাবীর-এর

১৯ তম খণ্ডে পৃষ্ঠা নং ৫-এ তিনি বলেন:

وَقَالَ آخَرُونَ: كَانَتْ مُجْتَمِعَةً عِنْدَ الْبَيْتِ الْمُقَدَّسِ فَقَالَ لَهَا: اذْهَبِي كَذَا وَكَذَا.
اعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْقَوْلَ إِنَّمَا يَتِمُّ إِذَا قُلْنَا الْأَرْضُ مُسَطَّحَةٌ لَا كُرَةٌ وَأَصْحَابُ هَذَا الْقَوْلِ احْتَجُّوا عَلَيْهِ.

অন্যদের মতে, পৃথিবী প্রথমে বাইতুল মাকদিসের আশেপাশে সংক্ষিপ্ত ছিল, পরে আল্লাহ তা'আলা একে প্রসারিত করেছেন। এরপর তিনি বলেন: এই মত কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন বলা হয় যে পৃথিবী সমতল, গোলক নয়।

[المصدر: مفاتيح الغيب - ج ١٩ - ص ٥]

 

১৯ তম খণ্ডের ১৩০ নম্বর পৃষ্ঠায়, আল্লাহর বাণী:

{وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا}

“এবং আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি।” — সূরা ক্বাফ: ৭

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: بَسَطْنَاهَا ‌عَلَى ‌وَجْهِ ‌الْمَاءِ

ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমরা একে পানির উপর সমতলভাবে বিস্তৃত করেছি।

[المصدر: مفاتيح الغيب - ج ١٩ - ص ١٣٠]


[২] ইমাম আব্দুল কারীম আর-রাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৬২৩ হিজরী]

তিনি তাঁর আল-আযীয শারহুল ওয়াজীয (الشرح الكبير للرافعي) কিতাবে বলেছেন:

والثاني: يجب، وهو اختيار القاضي أبِي الطَّيِّبِ، ويروى عن أحمد؛ لأن ‌الأرض مسطحة، فإذا رؤي في بعض البلاد عرفنا أن المانع في غيرِه شَيْءٌ عَارِض؛ لأن الهِلَالَ ليس بِمِحَلِّ الرُّؤْيَةِ.

দ্বিতীয় মত: এটি ক্বাযী আবু তাইয়্যিব (রহ.)-এর পছন্দনীয় মত এবং এটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। কারণ, পৃথিবী সমতলতাই যদি কোনো স্থানে চাঁদ দেখা যায়, তবে অন্য স্থানে না দেখা গেলে বুঝতে হবে যে সেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কারণ চাঁদ সবার দৃষ্টিগোচর হয় না।

 

[المصدر : العزيز شرح الوجيز = الشرح الكبير للرافعي - ج ٣ - ص ١٨٠]



[৩] ইমাম মুহাম্মাদ আল কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৬৭১ হিজরী]

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

 

فِي هَذِهِ الْآيَةِ رَدٌّ عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْأَرْضَ كَالْكُرَةِ، وَرَدٌّ عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْأَرْضَ تَهْوِي أَبْوَابُهَا عَلَيْهَا، وَزَعَمَ ابْنُ الرَّاوَنْدِيِّ أَنَّ تَحْتَ الْأَرْضِ جِسْمًا صَعَّادًا كَالرِّيحِ الصَّعَّادَةِ، وَهِيَ مُنْحَدِرَةٌ فَاعْتَدَلَ الْهَاوِي وَالصَّعَّادِي فِي الْجِرْمِ وَالْقُوَّةِ فَتَوَافَقَا. وَزَعَمَ آخَرُونَ أَنَّ الْأَرْضَ مُرَكَّبٌ مِنْ جِسْمَيْنِ، أَحَدُهُمَا مُنْحَدِرٌ، وَالْآخَرُ مُصْعِدٌ، فَاعْتَدَلَا، فَلِذَلِكَ وَقَفَتْ. وَالَّذِي عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ وَأَهْلُ الْكِتَابِ الْقَوْلُ بِوُقُوفِ الْأَرْضِ وَسُكُونِهَا وَمَدِّهَا، وَأَنَّ حَرَكَتَهَا إِنَّمَا تَكُونُ فِي الْعَادَةِ بِزَلْزَلَةٍ تُصِيبُهَا

 

"এই আয়াতে তাদের মত খণ্ডন করা হয়েছে যারা দাবি করে যে পৃথিবী গোলকের মতো, এবং তাদের মতও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যারা বলে যে পৃথিবী নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। ইবনে রাওয়ান্দী দাবি করেছিলেন যে পৃথিবীর নিচে একটি ঊর্ধ্বগামী বস্তু আছে, যেমন ঊর্ধ্বমুখী বাতাস, আর পৃথিবী নিম্নগামী; ফলে নিচের দিকে পড়া ও উপরের দিকে উঠা—দুই শক্তি ভারসাম্য রেখেছে। অন্যদের ধারণা যে পৃথিবী দুটি বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত—একটি নিম্নগামী, অন্যটি ঊর্ধ্বগামী—এবং তারা সমতায় পৌঁছেছে, তাই পৃথিবী স্থির রয়েছে। মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মতে সঠিক মত হলো—পৃথিবী স্থির, অচল ও সমতল, এবং এটি সাধারণত কেবল ভূমিকম্পের সময়ই নড়ে উঠে।"

 

📘| كتاب تفسير القرطبي - [9/280]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/20855/3611


[৪] ইমাম আল-বাইযাবী (রাহিমাহুল্লাহ) [৬৮৫ হিজরী]

তিনি তাঁর বিখ্যাত তাফসীর (তাফসীর আল-বাইদাওয়ী)-এর ৩য় খণ্ড, ১৮১ পৃষ্ঠায়, আল্লাহ তায়ালার বাণী:

{وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ}

“আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা।”

 

بسطها طولاً وعرضاً لتثبت عليها الأقدام وينقلب عليها الحيوان. جبالاً ثوابت من رسا الشيء إذا ثبت، جمع راسية والتاء للتأنيث على أنها صفة أجبل أو للمبالغة.

তিনি পৃথিবীকে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বিস্তৃত করেছেন, যাতে মানুষের পা তাতে স্থিরভাবে দাঁড়াতে পারে এবং প্রাণীরা তাতে চলাচল করতে পারে। আর তিনি তাতে স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা। ‘রাওয়াসী’ শব্দটি এসেছে ‘রাসা’ (স্থির থাকা) শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো স্থির বা দৃঢ় কোনো কিছু। এটি 'রাসিয়া' এর বহুবচন এবং এখানে 'তাআ' এসেছে স্ত্রীলিঙ্গ বোঝাতে অথবা গুরুত্ব বোঝাতে।

[المصدر: تفسير البيضاوي = أنوار التنزيل وأسرار التأويل - ج ٣ - ص ١٨١]


[৫] ইমাম আন-নাসাফি (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৭১০ হিজরী]

তিনি তাঁর তাফসীরের কিতাব মাদারিক আত-তানযীল ওয়া হাকায়িক আত-তাওয়ীল-এ আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর

{وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}

“এবং পৃথিবীর প্রতি তাকাও— কিভাবে তা সমতল করা হয়েছে।” (সূরা আল-গাশিয়াহ ৮৮:২০)

ব্যাখ্যায় বলেন:

 

سطحاً بتمهيد وتوطئة فهي كلها بساط واحد تنبسط من الأفق إلى الأفق، فكذا الزرابي.

এটি সমতলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বসবাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে। ফলে পুরো পৃথিবী একটি বিছানার মতো, যা এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। ঠিক যেমন কার্পেট বিছানো হয়।

 

[المصدر : تفسير النسفي = مدارك التنزيل وحقائق التأويل - ج ٣ - ص ٦٣٥]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/1394/7534


[৬] ইমাম ইবনুল আহনাফ আল ইয়ামানী (রাহিমাহুল্লাহ) [৭১৭ হিজরী]

ইমাম ইবনুল আহনাফ আল ইয়ামানী (রাহিমাহুল্লাহ)

তার তাফসীরে ৪র্থ খন্ড ৮৯ নং পৃষ্ঠায়,

আল্লাহ তায়ালার এই বাণীঃ

{وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا (19)}

এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ

مِهادًا تَحْمِلُكُمْ أحْياءً وتَسْتُرُكُمْ أمْواتًا، والمعنى: أنه تعالى بَسَطَها لِخَلْقِهِ، فجعلها ذَلُولًا وفِراشًا لَهُمْ، قيل: إنها بُسِطَتْ مِنْ ‌تَحْتِ ‌الكَعْبةِ مسيرة ‌خمسمائة ‌عام؛

"একটি শয্যা যা তোমাদের জীবিত অবস্থায় বহন করে এবং মৃত অবস্থায় আচ্ছাদিত করে।" এর অর্থ হলো— আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির জন্য পৃথিবীকে প্রশস্ত করেছেন, তাদের জন্যে তিনি একে করেছেন অনুগত ও শয্যাস্বরূপ। বলা হয় যে, এটি কাবা'র নিচ থেকে ৫০০ বছরের দূরত্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে।

«البستان في إعراب مشكلات القرآن» (4/ 89)


[৭] ইমাম আলাউদ্দিন আলী আল খাযিন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৭৪১ হিজরী]

ইমাম আলাউদ্দিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল খাযিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

 

«فقال: وهو الذي مد الأرض أي بسطها على وجه الماء، وقيل: كانت الأرض مجتمعة فمدها من تحت البيت الحرام، وهذا القول إنما يصح إذا قيل إن الأرض منسطحة كالأكف، وعند أصحاب الهيئة: الأرض كرة، ويمكن أن يقال: إن الكرة إذا كانت كبيرة عظيمة فكل قطعة منها تشاهد ممدودة كالسطح الكبير العظيم، فحصل الجمع ومع ذلك فالله تعالى قد أخبر أنه مد الأرض، وأنه دحاها وبسطها وكل ذلك يدل على التسطيح والله تعالى أصدق قيلا وأبين دليلا من أصحاب الهيئة وجعل فيها»

 

তিনি বলেছেন, "এবং তিনিই পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন," (وهو الذي مد الأرض) অর্থাৎ তিনি পানির ওপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন। আরও বলা হয়েছে, পৃথিবী একত্রিত ছিল, অতঃপর তিনি তা কাবা ঘরের নিচ থেকে প্রসারিত করেছেন। এই বক্তব্য তখনই সঠিক হবে যদি ধরে নেওয়া হয় যে পৃথিবী হাতের তালুর মতো সমতল। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী গোলাকার। তবে এও বলা যায় যে, যদি পৃথিবী অত্যন্ত বিশাল গোলক হয়, তবে এর প্রতিটি অংশই বিশাল সমতল ভূমির মতো দেখায়। এভাবে উভয় মতের মধ্যে সমন্বয় সম্ভবতবুও আল্লাহ তা'আলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন, বিস্তৃত করেছেন (دحاها) এবং সমতল করেছেন (وبسطها)এসব বর্ণনা সমতল আকৃতিরই ইঙ্গিত দেয়। আর আল্লাহ তা'আলার বাণী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতামতের চেয়ে অধিক সত্য ও প্রমাণে অধিক স্পষ্ট।

 

تفسير الخازن لباب التأويل في معاني التنزيل - [3/4]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/23628/1014#p1


[৮] ইমাম আবী হাইয়ান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসূফ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৭৪৫ হিজরী]

ইমাম আবী হাইয়ান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসূফ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

 

وَظَاهِرُهُ أَنَّ الْأَرْضَ لَيْسَتْ كُرَوِيَّةً بَلْ هِيَ مَبْسُوطَةٌ،

 

"এবং এর বাহ্যিক অর্থ হলো যে পৃথিবী গোলাকার নয়, বরং এটি সমতল।"

 

📘| كتاب البحر المحيط في التفسير – [10/284]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/23591/5915


[৯] ইমাম শামছুদ্দিন আয যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী]

তিনি তার আক্বীদার কিতাবে বলেন,

فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَّا قَوْلُهُ
{أَمِ السَّمَاءُ بناها - رفع سمكها فسواها}
الآيَاتُ فَإِنَّهُ خَلَقَ ‌الأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ قبل خلق السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ فِي يَوْمَيْنِ آخَرَيْنِ ثُمَّ نَزَلَ إِلَى ‌الأَرْضِ فَدَحَاهَا قَالَ وَدَحْيُهَا أَنْ أَخْرَجَ مِنْهَا الْمَاءَ وَالْمَرْعَى)


ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:
"
{أَمِ السَّمَاءُ بناها} (৭৯:২৭) "তিনি এর উচ্চতা বৃদ্ধি করেছেন এবং এটিকে সুবিন্যস্ত করেছেন।" অর্থাৎ - আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে আকাশ সৃষ্টির আগে। তারপর তিনি আকাশের দিকে ইচ্ছা করে তাকে দুই দিনে সুবিন্যস্ত করেছেন। এরপর তিনি পৃথিবীতে নাযিল হয়ে তাকে সমতলে বিস্তৃত করেছেন।" তিনি বলেন: "এর দাহা অর্থ হলো তিনি তা থেকে পানি ও চারণভূমি বের করেছেন।"

«العلو للعلي الغفار» (ص56)



[১০] ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম আল জাউযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [৬৯১-৭৫১ হিজরী]

তিনি তার "আর-রূহ" কিতাবে বলেন,

وكذلك مجيئه إلى ‌الأرض حين ‌دحاها، وسوَّاها، ومدَّها، وبسطها، وهيَّأها لما يرادُ منها.

"এবং অনুরূপভাবে তিনি (আল্লাহ তায়ালা) পৃথিবীতে (নাযিল হয়ে) এসেছিলেন যখন তিনি তাকে সমতলে বিস্তৃত করেছিলেন, সুবিন্যস্ত করেছিলেন, প্রসারিত করেছিলেন এবং প্রশস্ত করেছিলেন, এবং তাকে তার নির্ধারিত উদ্দেশ্যের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।"

«الروح - ابن القيم» (1/ 309 ط عطاءات العلم)


[১১] ইমাম আস-সামিন হালাবী (রাহিমাহুল্লাহ) [৭৫৬ হিজরী]

ইমাম আস-সামিন হালাবী (রাহিমাহুল্লাহ)‎

তাঁর 'উমদাতুল হুফফায' কিতাবের ২য় খন্ড ১৯৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন,

আল্লাহ তায়ালার এই বাণীঃ

{وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}

"পৃথিবীকে কীভাবে সমতল করেছেন?" (৮৮:২০)

أي بسطت واتسعت،

এর মানে হলো পৃথিবীকে বিস্তৃত এবং সমতল করা হয়েছে,

যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

{وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا}

"এবং এরপর পৃথিবীকে সমতল করেছেন"

أي بسطها بعد أن كانت كرةً.

- যদিও এটি পূর্বে গোলক আকৃতির ছিল।

«عمدة الحفاظ في تفسير أشرف الألفاظ» (2/ 197)


[১২] ইমাম আদুদুদ্দিন আল-ইযী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৭৫৬ হিজরী]

তিনি তাঁর কিতাব আল-মাওয়াকিফ ফি ইলমুল কালাম-এর ১৯৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেন:

الأرض بسيطة وليست كرية، وقولهم : تضاريس الأرض وخشوناتها ولا قدر لها، بالنسبة إليها، فهى كجاورسة على كرة كبيرة، فلا تخرجها عن كونها كرية بجملتها، لا يغني ، إذ الكرية لا تقبل الأشد والأضعف .

পৃথিবী সমতল, গোলাকার নয়। আর যারা বলে যে পৃথিবীর পার্বত্য এলাকা ও অমসৃণ অংশগুলো খুবই নগণ্য — বিশাল একটি গোলকের উপর ক্ষুদ্র দানার মতো — এটা কোনো গ্রহণযোগ্য কথা নয়। কারণ, গোলক আকৃতিতে 'কোথাও বেশি কোথাও কম' — এই ধারণা প্রযোজ্য নয়।

[المصدر: المواقف في علم الكلام - ص ١٩٩]


[১৩] ইমাম ইবনুল মুলাক্বিন (রাহিমাহুল্লাহ) [৭২৩–৮০৪ হিজরী]

ইবনুল মুলাক্বিন (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন মিশরী আলেম, হাদীসবিশারদ ও বহুগ্রন্থ প্রণেতা যিনি হাদীস, ফিকহ ও তাফসীরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বলেনঃ

 

والثاني: يجب؛ لأن الهلال واحد والخطاب شامل، ولأن الأرضَ مُسَطحَة.

 

আর দ্বিতীয় মত হলো: তা অবশ্যই ওয়াজিব, কারণ চাঁদ (হিলাল) তো একটাই এবং নির্দেশ (সারা দুনিয়ার জন্য) সর্বজনীন। আর এজন্যও যে, পৃথিবী সমতল।

 

📘| كتاب عجالة المحتاج إلى توجيه المنهاج - [2/521]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/20561/516


[১৪] ইমাম আল-ফাইরুযাবাদী
(রাহিমাহুল্লাহ) [৮১৭ হিজরী]‎

তার "তানওয়ীরুল মিকবাস মিন তাফসির ইবন আব্বাস" কিতাবের ১ম খন্ড ৪৭৬ নম্বর পৃষ্ঠায়,

আল্লাহ তায়ালার‎ এই বাণীঃ

"তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন সৃষ্টি করেছেন; (সূরা ত্বলাক্ব ১২)" এর

{وَمِنَ الأَرْض مِثْلَهُنَّ}

"এবং পৃথিবী থেকেও অনুরূপ।"

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন:

سبعا وَلكنهَا منبسطة

"এগুলো সাতটি স্তর, তবে তা সমতলভাবে বিস্তৃত।"

تنوير المقباس من تفسير ابن عباس (ص: 476)



[১৫] ইমাম ইবন হাজার আল-আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) [৭৭৩–৮৫২ হিজরী]

তিনি তাঁর বিখ্যাত কিতাব ফাতহুল বারী-এর ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৯৪ নম্বর পৃষ্ঠায়, “বাদ'উল খালক” (সৃষ্টির সূচনা) অধ্যায়ে, আল্লাহর বাণী {دَحَاهَا} – এর ব্যাখ্যায় বলেন:

قوله: {طحاها} ‌دحاها) هو تفسير مجاهد أخرجه عبد بن حميد وغيره من طريقه، والمعنى بسطها يمينا وشمالا من كل جانب، وأخرج ابن أبي حاتم أيضا من طريق ابن عباس، والسدي وغيرهما: ‌دحاها أي بسطها.

মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দাহাহা শব্দের অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন। এই তাফসীর আব্দ ইবনে হুমাইদ প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ মুজাহিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এর অর্থ হলো: আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে ডান-বামসহ সকল দিকে সমানভাবে বিস্তৃত করেছেন।

ইবন আবু হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ)–ও ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), আস-সুদ্দী (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: দাহাহা অর্থ– আল্লাহ তায়ালা একে বিস্তৃত করেছেন।

 

তিনি আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন:

{وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ} [الطور: 5]

“এবং উঁচু করা ছাদ।” — সূরা আত-তূর, আয়াত ৫

 

وهو يقتضي الرد على من قال: إن السماء كرية لأن السقف في اللغة العربية لا يكون كريا.

এটি তাদের মতের খণ্ডন করে যারা বলে যে আকাশ গোলাকার। কারণ, আরবি ভাষায় 'ছাদ' এমন কিছু নয় যা বাঁকা হয়।

 

[المصدر : فتح الباري لابن حجر - ج ٦ - ص ٢٩٤]

 


 

তিনি তাঁর বিখ্যাত ভূমিকা গ্রন্থ হাদীউস সারী–তে (পৃষ্ঠা ১১৬) আল্লাহ তায়ালার বাণী {دَحَاهَا} এর ব্যাখ্যায় বলেন:

قوله: {‌دحاها} أي بسطها، ودحى السيل أي بسط فيه ما ساقه من تراب.

দাহাহা শব্দের অর্থ হলো: আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন। আর দাহা শব্দটি বন্যা/প্রবাহিত পানির বেলায়ও ব্যবহৃত হয়—যেমন, প্রবাহিত পানি তার সাথে বয়ে আনা মাটি-বালি ছড়িয়ে দেয় (অর্থাৎ সমতল করে)।

 

[المصدر : «هدي الساري» - المقدمة - ص ١١٦]


[১৬] ইমাম জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লি (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু: ৮৬৪ হিজরী]

ইমাম জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ

 

وَقَوْله سُطِحَتْ ظَاهِر فِي أَنَّ الْأَرْض سَطْح وَعَلَيْهِ عُلَمَاء الشَّرْع لَا كُرَة كَمَا قَالَهُ أَهْل الْهَيْئَة وَإِنْ لَمْ يَنْقُض رُكْنًا مِنْ أركان الشرع

 

‎আল্লাহ তায়ালার এই বাণী
{وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}
"এবং পৃথিবীর প্রতি
, কিভাবে তা
‎‎সমতল করা হয়েছে' [৮৮:২০])
-এর ব্যাখ্যায় বলেন:
"আল্লাহ তায়ালার কথা (سُطِحَتْ) সমতল করা হয়েছে;
‎এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে পৃথিবী সমতল
, গোল
ক ‎নয়- যেমনটি জ্যোতির্বিদরা বলে থাকে। যদিও এটি শরিয়তের ‎কোনো আরকানকে বাতিল করে না।*

 

📘| تفسير الجلالين (ص: 805)

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/12876/6678


[১৭] ইমাম আবদুর রহমান আস-সা
'আলিবী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৮৭৫ হিজরী]

তিনি তাঁর তাফসীর গ্রন্থ তাফসীর আছ-সাআলিবী-র ৫ম খণ্ডের ৫৮৩ নম্বর পৃষ্ঠায়, সূরা আল-গাশিয়াহ-এর ২০ নম্বর আয়াত:

{وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ}

– এর ব্যাখ্যায় বলেন:

وظاهر الآية أن الأرض سطح لا كرة، وهو الذي عليه أهل العلم.

আয়াতের স্পষ্ট অর্থ হলো, পৃথিবী সমতল, গোলক নয়। আর এটাই আহলুল ইলমদের অভিমত।

 

[المصدر : تفسير الثعالبي - ج ٥ - ص ٥٨٣]

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/23618/2610


 

তিনি একই তাফসীর গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ৪৯০ নম্বর পৃষ্ঠায়, সূরা নূহ-এর ১৯ নম্বর আয়াত:

{وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا}

– এর ব্যাখ্যায় বলেন:

وظاهر الآية: أن الأرض بسيطة غير كُرِيَةً.

আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হলো, পৃথিবী সমতল, গোলক নয়।

এরপর তিনি বলেন:

পৃথিবীকে সমতল মনে করা—এটাই আল্লাহ তায়ালার কিতাবের স্পষ্ট বক্তব্য। আর এতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির আশঙ্কা নেই।

 

[المصدر : تفسير الثعالبي - ج ٥ - ص ٤٩٠]

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/23618/2517


[১৮] ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) [৮৪৯-৯১১ হিজরী]

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) লিখেছেনঃ

 

قوله تعالى: {وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا}
قال الكرماني فيه دليل على أن الأرض مبسوطة وليست على شكل الكرة.

 

মহান আল্লাহ বলেনঃ
“ আর পৃথিবী
, আমি সেটাকে বিছিয়ে দিয়েছি” (১৫:১৯}

 

ইমাম বুরহান উদ্দিন আল-কিরমানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবী সমতল এবং গোলক আকৃতির নয় ।

 

📘| كتاب الإكليل في استنباط التنزيل- [244]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/1385/234


[১৯] ইমাম মাজীরুদ্দীন ইবনে মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী(রাহিমাহুল্লাহ) [৯২৭ হিজরী]

তার তাফসীরের ৩য় খন্ড ৫৪৬ নং পৃষ্ঠায়,

আল্লাহ তায়ালার এই বাণীঃ

{وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا}

এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ

بَسَطْناها على وجهِ الماءِ، يقال: إنها مسيرةُ خمسِ مئةِ سنةٍ في مثِلها دُحِيَتْ من ‌تحتِ ‌الكعبةِ.

""আমরা পৃথিবীকে পানির উপর বিছিয়ে দিয়েছি। বলা হয় যে, এটি কাবার নিচ থেকে পাঁচশ বছরের পথ পরিমাণ বিস্তৃত হয়েছে এবং অনুরূপ আরও পাঁচশ বছরের পথব্যাপী প্রসারিত হয়েছে।""

«فتح الرحمن في تفسير القرآن» (3/ 546)


[২০] ইমাম আল খাতীব আশ শিরবিনী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৯৭৭ হিজরী]

তিনি তাঁর আস-সিরাজ আল-মুনীর কিতাবের ২য় খণ্ডের ১৪৫ নম্বর পৃষ্ঠায়, আল্লাহ তায়ালার এই বাণী:

{وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ}

– এর ব্যাখ্যায় বলেন:

أي: بسطها طولاً وعرضاً لتثبت عليها الأقدام ويتقلب عليها الحيوان ولو شاء لجعلها كالجدار والأزج لا يستطاع القرار عليها، هذا إذا قلنا أنّ الأرض مسطحة لا كرة، وعند أصحاب الهيئة أنها كرة، فكيف يقولون بذلك؟ ومدّ الأرض ينافي كونها كرة، كما ثبت بالدليل؟ أجيب: بأنّ الأرض جسم عظيم، والكرة إذا كانت في غاية الكبر كان كل قطعة منها تشاهد كالسطح، كما أنّ الله تعالى جعل الجبال أوتاداً، مع أنّ العالم من الناس يستقرّون عليها، فكذلك، ومع هذا فالله تعالى قد أخبر أنه مدّ الأرض ودحاها وبسطها، وكل ذلك يدل على التسطيح، والله تعالى أصدق قيلاً وأبين دليلاً من أصحاب الهيئة، هذا هو الدليل الأوّل من الدلائل الأرضية.

অর্থাৎ তিনি একে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বিস্তৃত করেছেন, যাতে মানুষের পা এতে স্থির থাকতে পারে এবং জীবজন্তু এতে চলাফেরা করতে পারে। তিনি চাইলে এটিকে দেয়ালের মতো খাড়া করে দিতে পারতেন, অথবা একে গোলক আকৃতির করলে তাতে স্থির থাকা সম্ভব হতো না। এটি তখনই বলা যায়, যখন আমরা বলি যে পৃথিবী সমতল, গোলক নয়। কিন্তু জ্যোতির্বিদদের মতে এটি গোলক আকৃতির।

তারা বলে, ‘পৃথিবী বিস্তৃত করা হয়েছে’—যা প্রমাণিত সত্য যে এটি গোলক হওয়ার বিপরীত। তবে তারা এর ব্যাখ্যায় বলে পৃথিবী একটি বিশাল দেহ। আর যদি কোনো গোলক অত্যন্ত বড় হয়, তবে তার প্রতিটি অংশ সমতল মনে হবে। যেমন, আল্লাহ পাহাড়গুলোকে খুঁটির মতো তৈরি করেছেন, অথচ কিছু মানুষ পাহাড়ের উপরও স্থির থাকতে পারে। এখানেও একই বিষয় প্রযোজ্য।

তবে এর পাশাপাশি আল্লাহ জানিয়েছেন যে, তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন, সমতল করেছেন এবং বিছিয়ে দিয়েছেন। এই সমস্ত শব্দই পৃথিবীকে সমতল করার বিষয়টি প্রমাণ করে। আর আল্লাহর কথা জ্যোতির্বিদদের কথার চেয়ে অধিক সত্য ও প্রমাণসক্ষম।

 

[المصدر : السراج المنير في الإعانة على معرفة بعض معاني كلام ربنا الحكيم الخبير - ج ٢ - ص ١٤٥]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/1466/799

 

উক্ত কিতাবের ২য় খণ্ডের ১৯৭ নম্বর পৃষ্ঠায়, আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন:

{وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا}

“এবং আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি।”

قال ابن عباس: بسطناها على وجه الماء.

ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা একে পানির ওপর সমতলভাবে বিস্তৃত করেছি।”



[২১] ইমাম নাজমুদ্দিন আল-গাইতি (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ৯৮২ হিজরী]

তাঁর 'আল-আজউবাতুল ‎মুফিদাহ আনিল আস-ইলাতিল জাদি-দাহ' কিতাবের ৭৪ নম্বর ‎পৃষ্ঠায় বলেন:

والذي ذهب إليه عامة المفسرين من الكتاب العزيز أن السماء مسطوحة غير كرة وكذلك الأرض عندهم مسطوحة غير كرة،

"সাধারণভাবে অধিকাংশ মুফাসসিরগণ ‎কুরআন থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আকাশ ‎সমতল এবং গোলক নয়। একইভাবে, তাদের মতে, পৃথিবীও ‎সমতল এবং গোলক নয়।"

এরপর তিনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় বলেন:

وهذه الآثار وما أشبهها لا تعين القول بأنها كرية مستديرة، بل ظاهرها أن السماء سقف كري كالخيمة، وهو قول قال به جماعة وإن رده من قال من أهل الهيئة بأنها كرية مستديرة كما رد القول بأنها مسطوحة؛ وقد علمت أن ظاهر القران يؤيده وقال به عامة المفسرين كما تقدم،

"এই সকল বর্ণনা ও অনুরূপ বর্ণনাগুলো থেকে পৃথিবীকে গোলক ও সম্পূর্ণ গোলাকার বলে প্রমাণ করা যায় না।' বরং এগুলোর বাহ্যিক অর্থ হলো - আসমান একটি গম্বুজাকার ছাদ, যেমনটি একটি তাবুর আকৃতি। এ মতটি একদল আলিম দিয়েছেন, যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটিকে খণ্ডন করে বলেছেন যে আকাশ গোলক আকৃতির। ঠিক যেভাবে তারা (জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা) পৃথিবীকে সমতল বলার মতকেও খণ্ডন করেছেন। 'আপনি নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে, কুরআনের বাহ্যিক অর্থ এটিই (সমতল পৃথিবীকে) সমর্থন করে। এবং অধিকাংশ মুফাসসিরও এ মত পোষণ করেছেন, যেমন পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।"

الأجوبة المفيدة عن الأسئلة العديدة [74-75]


[২২] ইমাম ইবনু
'আল্লান (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু ১০৫৭ হিজরী]

তিনি তাঁর দালীলুল ফালিহীন লিতুরুক রিয়াদুস সালিহীন কিতাবে আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন:

{إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ}

“নিঃসন্দেহে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মাঝে নিদর্শন রয়েছে।”

إذ جعل الأولى: مرفوعة لا على عمد. والثانية: مدحوة مسطحة على ماء جمد.

তিনি প্রথমটিকে (আকাশকে) স্তম্ভ ছাড়া উঁচু করে রেখেছেন, আর দ্বিতীয়টিকে (পৃথিবীকে) বিছিয়ে, সমতল করে পানির উপর দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন।

 

[المصدر : دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين - ج ٧ - ص ٢٤٣]

 

তথ্যসূত্রঃ https://shamela.ws/book/140/1928